প্রসুতি কল্যান সুবিধা পলিসি

প্রসুতি কল্যান সুবিধা পলিসি

১. প্রসুতি কল্যান সুবিধা প্রাপ্তির অধিকার এবং প্রদানের দায়ীত্বঃ

প্রত্যেক মহিলা শ্রমিক তার মালিকের নিকট থেকে তার সন্তানপ্রসবের সম্ভাব্য তারিখের পূর্ববর্তী ৮ সপ্তাহ এবং সন্তানপ্রসবের পরবর্তী ৮ সপ্তাহের জন্য প্রসুতি কল্যান সুবিধা পাইবার অধিকারী হইবেন।তার মালিক তাকে উক্ত সুবিধা দিতে বাধ্য থাকিবেন তবে উল্লেখ থাকে কোন মহিলা উক্তরুপ সুবিধা পাইবেননা যদি না তিনি উক্ত মালিকের অধীন তাহার সন্তানপ্রসবের পূর্বে কমপক্ষে ৬ মাস কাজ করিয়া থাকেন।

ক) কোন মহিলা উক্তরুপ সুবিধা পাইবার অধিকারী হইবেনা যদি তার সন্তানপ্রসবের সময় দুই বা ততোধিক সন্তানজীবিত থাকে।তবে এ ক্ষেত্রে তিনি কোন ছুটি পাইবার অধিকারী হলে তা তিনি পাবেন।

 

২. প্রসুতি কল্যান সুবিধা পরিশোধ সংক্রান্ত পদ্ধতিঃ

কোন গর্ভবতী মহিলা শ্রমিক প্রসুতি কল্যান সুবিধা পাইবার অধিকারী হইলে সে মালিককে লিখিত বা মৌখিক ভাবে এই মর্মে নোটিশ দিবেন যে পরবর্থী আট সপ্তাহের মধ্যে তার সন্তানপ্রসবের সম্ভাবনা আছে ।এছাড়া উক্ত নোটিশে যদি তার মৃত্যু হয় সেক্ষেত্রে এই সুবিধা যিনি গ্রহন করবেন তার নাম উল্লেখ থাকিবে।কোন মহিলা উক্তরুপ কোন নোটিশ প্রদান না করিয়া থাকিলে তার সন্তানপ্রসবের সাতদিনের মধ্যে তিনি উক্তরুপ নোটিশ প্রদান করিয়া তার সন্তানসম্পর্কে মালিককে অবহিত করিবেন।

 

৩.প্রসুতি কল্যান সুবিধা মহিলা শ্রমিকের ইচ্ছানুযায়ী মালিক যে কোন পন্থায় প্রদান করিবেনঃ

যে ক্ষেত্রে কোন রেজিষ্টার্ড চিকিৎসকের নিকট হইতে এই মর্মে প্রাপ্ত প্রত্যয়নপত্র পেশ করা হয় যে উক্ত মহিলার পরবতী ৮ সপ্তাহের মধ্যে সন্তানপ্রসবের সম্ভাবনা আছে সে ক্ষেত্রে প্রত্যয়ন পত্র পেশ করার পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রসব পূর্ববর্তী আট সপ্তাহের জন্য প্রদেয় প্রসুতি কল্যান সুবিধা প্রদান করবেন।পরবর্তীতে মহিলার সন্তানপ্রসবের প্রমান পেশ করার তারিখ হতে পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে অবশিষ্ট সময়ের জন্য উক্তরুপ সুবিধা প্রদান করবেন।তবে শর্ত থাকে যে প্রসুতি কল্যান বা উহার কোন অংশ প্রদান সন্তানপ্রসবের প্রমানের উপর নির্ভরশীল। সেহেতু কোন প্রমান কোন মহিলা তার সন্তানপ্রসবের তিন মাসের মধ্যে পেশ না করলে তিনি এই সুবিধা পাইবার অধিকারী হইবেননা।

 

৪. প্রসুতি কল্যান সুবিধার পরিমানঃ

দৈনিক সাপ্তাহিক বা মাসিক গড় মজুরী গননার জন্য সংশ্লিষ্ট মহিলা কর্তৃক নোটিশ প্রদানের পূর্ববর্তী তিন মাসের তার প্রাপ্ত মোট মজুরীকে উক্ত সময়ে তার মোট প্রকৃত কাজের দিন গুলি দ্বারা ভাগ করিতে হবে।

 

প্রসূতি ভাতা হিসাবের পদ্ধতি:

১৯৩৯ এবং সংশোধিত ২০০৬ইং সালের মাতৃকল্যাণ আইন অনুযায়ী নিম্ন লিখিত ভাবে প্রসূতি ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে। নিম্নোক্ত উদাহরণটি কোন প্রকৃত শ্রমিকের নয় এবং উল্লেখিত সংখ্যা গুলো শুধুমাত্র হিসাবের সুবিধার্থে উদাহরণ হিসাবে দেখানো হলঃ

মাস মোট কর্ম দিবস শ্রমিকের প্রকৃত কর্ম দিবস গত তিন মাসে শ্রমিকের মোট কর্ম দিবস আয় (টাকা)  কর্তন  নীট আয় (টাকা) কর্তন নীট আয় (টাকা) গত ৩ মাসে শ্রমিকের মোট প্রকৃত অর্জিত মজুরী
মোট মজুরী হাজিরা বোনাস মোট আয় পি.এফ জনিত কতৃন
এপ্রিল 25 20 71 1200 100 1300 1300 3400
মে 26 25 1000 1000 1000
জুন 26 26 1000 100 1100 1100

 

  • উপরে উল্লেখিত উদাহরনে ধরে নেয়া হয়েছ যে, শ্রমিকের ছুটি পাওনা আছে এবং আইন সংগত ভাবে ছুটি কালীন অনুপস্থিতির জন্য মজুরী কর্তন করা হয় নাই।
  • মাতৃত্বকালীন ১৬ সপ্তাহ ছুটির ব্যাখ্যা হলো ০৭ দিন  ১৮ সপ্তাহ = ১১২ দিন
  • উক্ত ১১২ দিনের জন্য প্রাপ্য মজুরী হিসাব করার পদ্ধতী নিম্নরূপঃ

মাতৃত্বকালীন ছুটি সংক্রান্ত নোটিশ প্রদানের পূর্ববর্তী ০৩ মাসের মোট প্রকৃত অর্জিত মজুরী  ১১২ দিন

শ্রমিকের পূর্ববর্তী ০৩ মাসের মোট প্রকৃত কর্ম দিবস  টাকা (3400×12)/71=5363 টাকা।

 

৫. মহিলার মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রসুতি কল্যান সুবিধা প্রদানঃ

প্রসুতি কল্যান সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন মহিলা সন্তাব প্রসব কালে অথবা উহার পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যু বরন করলে মালিক শিশু সন্তানটি যদি জীবিত থাকে তবে যে ব্যক্তি ত্বাবধানের দায়ীত্বে নিযুক্ত থাকেন তাকে এবং শিশুটি যদি বেচে না থাকে তাহলে তার মনোনীত ব্যক্তিকে অথবা মনোনীত ব্যক্তি না থাকলে মৃত মহিলার আইনগত প্রতিনিধিকে উক্তরুপ সুবিধা প্রদান করিতে হইবে।

 

৬. বিবিধঃ

যদি কোন মহিলা শ্রমিক প্রসুতি কল্যান সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হওয়ার সময সীমার মধ্যে কিন্তু সন্তানপ্রসবের পূর্বে মারা যান তাহা হইলে মালিক উক্ত মহিলার মৃত্যুর তারিখসহ তৎপূর্ববর্তী সময়ের জন্য উক্তরুপ সুবিধা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন।এছাড়া মহিলার মৃত্যুর সময় পর্যন্ত যদি মালিকের নিকট এই বাবদ কোন পাওনা থাকে তাহলে মহিলার মনোনীত ব্যক্তিকে বা মনোনীত ব্যক্তি না থাকিলে তাহার আইনগত প্রতিনিধিকে উহা হস্তান্তর করিতে হইবে।

Share This Post

Related Post