অতিরিক্ত কাজ এবং কাজের মজুরি নির্ধারণ পদ্ধতি

অতিরিক্ত কাজ এবং কাজের মজুরি নির্ধারণ পদ্ধতি

যেহেতু কোন শ্রমিক অতিরিক্ত কাজ করবে কি না তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তাই কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করে যে, যে কোন পরিস্থিতিতেই অতিরিক্ত কাজ শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক নয় বরং ঐচ্ছিক”। মূলত কর্তৃপক্ষ দৈনিক ০৮ (আট) ঘন্ট হিসাবে উৎপাদন পরিকল্পনা প্রস্তুত করে থাকে। অনেক সময় বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ইচ্ছার ভিত্তিতে দৈনিক সর্বোচ্চ ০২ (দুই) ঘন্টা অতিরিক্ত কাজ করার জন্য অনুরোধ করতে পারেন, তবে কোন শ্রমিকের মোট সাপ্তাহিক কার্যকাল সর্বোচ্চ ৬০ (ষাট) ঘন্টার অতিরিক্ত এবং বৎসরে গড়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫৬ (ছাপ্পান্ন) ঘন্টার অতিরিক্ত করা হয় না।

অতিরিক্ত কাজের জন্য শ্রমিকদের নিম্নোক্ত উপায়ে মজুরী প্রদান করা হয়ে থাকে:-

নিম্নোক্ত হিসাব অনুয়ায়ী একজন শ্রমিক তার মূল বেতনের দ্বিগুন হারে অতিরিক্ত কাজের মজুরী পেয়ে থাকেন।

অতিরিক্ত কাজের মজুরী = মূল বেতন ী ২ ী অতিরিক্ত কাজের সময়।

১৪। কাজের সময়সূচী ও হাজিরা লিপিবদ্ধ করণঃ

ক) একজন শ্রমিক দৈনিক ০৮(আট) ঘন্টা কাজ করে থাকেন এবং ০১(এক) ঘন্টা মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি ভোগ করতে পারেন।

খ) একজন শ্রমিক সপ্তাহে সর্বোাচ্চ মোট ৬০ (৪৮+১২) ঘন্টা কাজ করতে পারেন।

গ) কারখানার কার্য সময় সাধারণত ******** জেনারেল শিফ্ট সকাল ৮ ঘটিকা হইতে বিকাল ৫.০০ ঘটিকা পর্যন্ত। এখানে উল্লেখ্য যে, সাময়িক ভাবে রমজান মাস ও অন্য কোন বিশেষ সময়ে প্রয়োজন বোধে উল্লেখিত কার্য সময় কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের সম্মতিক্রমে পুণঃনির্ধারণ করা যাবে।

ঘ) প্রত্যক শ্রমিকের প্রতিদিনের হাজিরা ও অতিরিক্ত সময় তাদের নিজস্ব হাজিরা খাতা ও হাজিরা কার্ডে লিপিবদ্ধ করা হয় (কোম্পানী কর্তৃক সরবরাহকৃত)।

ঙ) হাজিরা কার্ডে একজন শ্রমিকের কর্মস্থলে দৈনিক প্রবেশ ও বাহির সময় সঠিক ভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়।

চ) প্রবেশ ও বার্হিগমনের সময় হিসাব করে অতিরিক্ত কাজ সহ মোট কাজের সঠিক সময় লিপিবদ্ধ করা হয়।

১৫। মোট কর্মদিবস ও সাপ্তাহিক ছুটিঃ

শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তার স্বাভাবিক কর্মদিবস সপ্তাহে মোট ০৬(ছয়) দিন, অর্থাৎ (প্রধান কার্যালয় ও গার্মেন্টস্ এর জন্য) শনিবার হতে বৃহস্পতিবার, অত্র গ্রুপের বাকি সকল ইউনিট সমুহের জন্য সাইক্লিক সিস্টেমে সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করে থাকে

 

উপসংহারঃ

সুষ্ঠু প্রশাসনের লক্ষ্যে ছুটির নীতিমালা ২০০৬ এর সংশোধনী সহ প্রণিত হইল এবং অন্যান্য মানব সম্পদ নীতিমালা সমূহ প্রণিত হইল। সকল বিভাগীয় প্রধান নিজ নিজ দায়িত্বে সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকগনকে অত্র নীতিমালা সম্পর্কে নিয়োগান্তে বিশদ ভাবে বর্ণনা করবেন। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে শিল্পের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের শিল্পের মান ইতিমধ্যেই বর্হিবিশ্বের একটি সতন্ত্র পরিচয় খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছে। তাই এ শিল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এ গতিকে আরো তরান্বিত করতে এবং এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রথমেই দৃষ্টি পাত করতে হবে এর প্রাণ শক্তির দিকে। আর এ প্রাণ শক্তি হল এ শিল্পে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী। নিরাপদ কর্ম পরিবেশ উৎপাদনের পূর্ব শর্ত, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ আর জানমালের নিরাপত্তা বিধান করলে প্রতিটি শ্রমিক কর্মচারী নিজ কর্মে আরো অনুপ্রাণিত হবে, এতে বাড়বে তাদের উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রীক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাড়বে কারখানার উৎপাদন, ফলে একক প্রতি উৎপাদিত পন্যের মূল্য কমবে এবং ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসবে। বর্ণিত নীতিমালা সম্পর্কে সকল শ্রমিকের জানা এবং এ নীতি মালা যথাযত ভাবে পালন বা অনুসরন করা একান্ত আবশ্যক। একটি সুষ্ঠ সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা অসুরণ করলে যে কোন শিল্প কারখানা তার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে। তাই শ্রমিকদের সাথে আচরণ সংক্রান্ত নীতিমলাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এবং এর অনুসরণ বাধ্যতামূলক বলে গন্য করে। মালিক শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়ন উৎপাদনের মূল চালিকা শক্তি। বাংলাদেশের শ্রম ও শিল্পআইনেরও মূল উদ্দেশ্য হলো প্রচলিত বিধি বিধান সকলে মেনে চলার মাধ্যমে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা।

Share This Post

Related Post