FIRE POLICY – অগ্নি নির্বাপন নীতিমালা

FIRE POLICY – অগ্নি নির্বাপন নীতিমালা

গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লি: ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মনে করে যে অগ্নি নিরপত্তা ব্যবস্থাা ফ্যাক্টরীতে কাজের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। আর এর গুরুত্ব বিবেচনা করে অগ্নি নির্বাপন নীতিমালা (FIRE POLICY) তৈরী করা হয়েছে।

১. যদি কোন ফ্লোরে আগুন লাগে তাহলে সাথে সাথে সকলকে সতর্ক করার জন্য হুইসেল /সাইরেন বাজিয়ে সতর্ক করতে হবে।

২. যে ফ্লোরে আগুন লেগেছে সেই ফ্লোরের বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে।এছাড়া যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফ্যাক্টরীর সকল বিদ্যুৎ লাইনের মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে।

৩. নিরাপত্তার দায়ীত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিগন তৎক্ষনাত ফ্যাক্টরীর দুই গেটে অবস্থান নিবে ।অর্থাৎ বাহির থেকে যেন কেউ অনুপ্রবেশ করতে না পারে অর্থাৎ কর্ডন দলের সাথে কাজ করবে।তাছাড়া মানূষ ও গাড়ী চলাচলের জন্য সামনের পথ উম্মুক্ত রাখবে।

৪. অগ্নি নির্বাপক দল কর্তৃক ফ্লোরে অথবা সেকশনে রক্ষিত অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৫. অগ্নি নির্বাপক দল এবং উদ্ধারকারী দলকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে কাজ করতে হবে।

৬. ফ্লোর বা সেকশন থেকে লোকজন নেমে যাওয়ার পরে উদ্ধারকারী দল দূর্ঘটনা কবলিতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসক দলের কাছে নিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে ফ্যাক্টরীর চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌছে দিবেন।

৭. কারো গায়ের কাপড়ে আগুন লেগে গেলে তৎক্ষনাত ফ্লোরে গড়াগড়ি দিতে হবে কিন্তু কোনক্রমেই দৌড়ানো যাবেনা।

৮. টয়লেট বাথরুম ও বিল্ডিং এর ছাদ চেক করতে হবে যাতে কোন লোক আটকা পরে না থাকে।

৯. কোন অবস্থাতেই সিড়ি ব্যতীত অন্য কোন ভাবে নামার চেষ্টা করা যাবেনা।

১০. অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে উদ্ধারকারী দল দূর্ঘটনা স্থল থেকে মালামাল উদ্ধার করবে।

১১. পানিপূর্ন বা পানির কাছাকাছি স্থানের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

১২. ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকা অবস্থায় অগ্নি দূর্ঘটনা ঘটলে ফ্যাক্টরীতে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী অতি সত্বর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনা অবহিত করবেন।

প্রশাসনিক শাখা কর্তৃক গ্রহনীয় বিধি ব্যবস্থা :

১. আহত লোকজনকে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যাক্টরীর চিকিৎসা কেন্দ্র বা নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রেরন করতে হবে।

২. অনতিবিলম্বে ফায়ার ব্রিগেডকে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য টেলিফোন করতে হবে।

অগ্নি নির্বাপন / জরূরী অবস্থার জন্য দলসমূহের করনীয় :

১ কর্ডন পার্টি :

ক. নিরাপত্তায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ

অবস্থান : ১নং ও ২নং গেটের ভিতরে এবং বাহিরে।

খ. অনুপ্রবেশকারীকে প্রতিহত করা এবং সামনের রাস্তা গাড়ীচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা যাতে ফ্যাক্টরীর লোকজন নির্বিঘেœ বাসায় যেতে পারে এবং ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশের গাড়ী চলাচল করতে পারে।

২. অগ্নি নির্বাপনী দল :

প্রত্যেক সেকশনের শাখা প্রধানগন অগ্নি নির্বাপনের সার্বিক দায়ীত্ব পালন করবেন ।তাদের তত্বাবধানে  অগ্নি নির্বাপনী দল এবং উদ্ধারকারী দল কাজ করবে।তারা পরিচালক এবং এফ এম এর সাথে আলোচনা পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

উদ্ধারকারী দল : প্রথমে মানুষ এবং পরে মালামাল উদ্ধার করবে।

প্রাথমিক চিকিৎসা দল : দূর্ঘটনা কবলিতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করবে।

উপসংহার :

যে কোন জরুরী অবস্থায় আমাদের একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে।এ ধরনের পরিস্থিতে সাধারনত: ক্ষতি হয় অপূরনীয় ও ভয়াবহ।তাই সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করতে হবে বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য।জান ও মালের হেফাজত করা আমাদের নৈতিক দায়ীত্ব ও কর্তব্য।

অগ্নি নির্বাপন আদেশ :

ভূমিকা : বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প একটি অনন্য রপ্তানীমূখী প্রতিষ্ঠান।গুনগত মানের জন্য বিশ্বজুড়ে এ শিল্পের সুনাম রয়েছে।প্রতি বৎসর গার্মেন্টস শিল্প খাত থেকে সর্বাধিক বৈদেশিক মূদ্রা অর্জিত হয়ে থাকে।নব্বইর দশক থেকে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ খুবই ব্যপক ও উৎসাহব্যঞ্জক।সম্প্রতি গার্মেন্টস শিল্পে সংঘটিত অগ্নিকান্ড ও দূর্ঘটনা দেশবাসীকে বিচলিত করেছে।এজন্য অগ্নিকান্ড ও দূর্ঘটনা প্রতিরোধ করা অতীব জরুরী।

অগ্নিকান্ড বা দূর্ঘটনার কারনসমূহ :

১. এ যাবত কালের সকল অগ্নিকান্ডের মূল কারন হিসাবে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিটকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২. বিড়ি সিগারেটের আগুন থেকে অগ্নিকান্ড ঘটতে পারে।

৩. ম্যাচ অথবা লাইটার থেকে অগ্নিকান্ড ঘটতে পারে।

৪. যে কোন ধরনের বিস্ফোরক বা কেমিকেল থেকে অগ্নিকান্ড বা দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অগ্নিকান্ড বা দূর্ঘটনা প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থাসমূহ :

১.    অগ্নিকান্ড ঘটার সুযোগ না দেয়াই এর প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

২.    পর্যাপ্ত পরিমান সচল অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র বিভিন্ন সুবিধাজনক পয়েন্টে মজুদ রাখা।

৩.   অগ্নিকান্ডের সময় আত্মবিশ্বাসী হয়ে অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রের ব্যবহার করা।

৪.    ধুমপান সম্পূর্নভাবে নিষিদ্ধ করা।

৫.    ম্যাচ অথবা লাইটার সহ ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।

৬.   গ্যাস লাইন এবং বিদ্যুত লাইন নিয়মিত পরিদর্শন করে তা পরিদর্শন বইতে লিখতে হবে।

৭.    ফ্যাক্টরীতে কেমিকেল ব্যবহারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা।

৮.   অগ্নি নির্বাপনের উপর নিয়মিত মহড়া করে এ বিষয়ে সকলকে সচেতন করতে হবে।

৯.   প্রত্যেক ফ্লোরে আগে থেকেই অগ্নিনির্বাপক এবং উদ্ধারকারী দল গঠন করে রাখতে হবে।

১০.   ফ্যাক্টরী চলাকালীন প্রত্যেক গেট অথবা দরজার তালা খোলা রাখা এবং তালাচাবি প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিকট জমা রাখা।সমস্ত গেট খোলা আছে কিনা প্রশাসনিক কর্মকর্তা অবশ্যই তা নিশ্চিত করবেন।

১১.   ফ্যাক্টরী বন্ধ হয়ে যাবার পর রুটিন মাফিক নিয়মিত চেক করতে হবে।উক্ত চেকের সময় এডমিন ,সিকিউরিটি এবং ইলেকট্যিক বিভাগের লোক এবং ষ্টোরের প্রতিনিধি থাকবে।

১২.   প্রত্যেক সিড়িতে এবং প্রত্যেক ফ্লোরের উভয় প্রান্তে জরুরী বাতি / চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

১৩.  ফ্যাক্টরীতে অবস্থানরত গাড়ী সবসময় বহির্মূখী করে পার্ক করতে হবে যাতে স্বল্প সময়ে নিরাপদ অবস্থান গ্রহন সহ গাড়ী কর্তৃক কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হয়।

১৪.   প্রত্যেক ফ্লোরে নিয়ন্ত্রনের সুবিধার্থে  পি এ ইকুইপমেন্ট /হ্যান্ডমাইকের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

অগ্নিকান্ডের  বা দূর্ঘটনার সময় করনীয় বিষয়সমূহ :

১.    আগুন লাগার সাথে সাথে সকলকে সতর্কীকরনের নিমিত্তে সাইরেন বা বেল বাজিয়ে সতর্ক করতে হবে।

২.    যে ফ্লোরে আগুন লেগেছে সেই ফ্লোরের বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ অফ করে দিতে হবে।

৩.   অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকারীদল ব্যতীত মহিলা পুরুষ সকলে যত দ্রুত সম্ভব দ্রুততার সাথে সিড়ি দিয়ে স্কেপ প্লান অনুযায়ী বের হয়ে যাবে।

৪.    নিরাপত্তার দায়ীত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিগন তাৎক্ষনিক ফ্যাক্টরীর গেটের ভিতরে এবং বাহিরে অবস্থান নিবে যেন বাহির থেকে কেউ অনুপ্রবেশ করতে না পারে ।তাছাড়া মানুষ গাড়ী চলাচলের জন্য সামনের পথ উম্মুক্ত রাখবে।

৫.    অগ্নি নির্বাপক দল কর্তৃক ফ্লোরে রক্ষিত অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

৬.   অগ্নিনির্বাপক এবং উদ্ধারকারী দলকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে কাজ করতে হবে।

৭.    ফ্লোর বা সেকশন থেকে লোকজন নেমে যাওয়ার পরে উদ্ধারকারী দল দ্রুত দূর্ঘটনা কবলিতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসক দলের কাছে নিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে ফ্যাক্টরীর চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌছে দিবে।

৮.   কারো পরনের কাপড়ে আগুণ লেগে গেলে তৎক্ষনাত গড়াগড়ি দিতে হবে।

৯.   টয়লেট ও বিল্ডিং এর ছাদ চেক করতে হবে যাতে কোন লোক আটকা না পরে।

১০.   কোন অবস্থায় সিড়ি ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থায় নামার চেষ্টা করা যাবেনা।

১১.   অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে উদ্ধারকারীদল দূর্ঘটনা কবলিত স্থান থেকে মালামাল উদ্ধার করবে।

প্রশাসনিক শাখা কর্তৃক করনীয় বিষয়সমূহ :

১.আহত লোকজনকে প্রয়োজন অনুযায়ী নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রেরন করবে।এজন্য একটি গাড়ীকে এ্যাম্বুলেন্স হিসাবে রেডী রাখবে।

২. অনতিবিলম্বে ফায়ার ব্রিগেডকে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য টেলিফোন করতে হবে।ফায়ার ব্রিগেডের ফোন নম্বর :
হেড কোয়ার্টার ঢাকা – ৯৫৫৬৬৬৬ , ৯৫৫৫৫৫৫ ( ১১৯ )
মোহাম্মদপুর – ৯১১২০৭৮,৯৫৫৬৭৫৪
মিরপুর- ৯০০১০৫০,৯০০১০৫৫

৩. আগুন লাগার সাথে সাথে প্রয়োজনীয় পুলিশের সহায়তার জন্য টেলিফোন করতে হবে। ডি এম পি – ( ১৯৯) ৪১০০৬১ – ৫

Share This Post

Related Post

Leave a Reply